স্বপ্ন

মাহবুব মোর্শেদ ছবির মতো সাজানো কোনো এক দেশে আমার একটা বাড়ী আছে। মাঝে মাঝে আমি সেখানে যাই। গোপনে দরজা খুলি, ঘরের ভেতর বসে থাকি। চা খাই। বারান্দায় বসে দেখি পাহাড়ের ওপর সাজানো গোছানো মেঘ। একই বর্ণের ফুল পড়ে থাকে রাস্তায়। একই রঙ্গের পাতা। ওরা কী একটা বিদেশী ভাষায় কথা বলে। খুব শীতের দেশ। আমি যখন যাই তখন সেখানে ভোর। অগণন বিদেশী পাখীর ডাকে ওঠে নতুন … পড়তে থাকুন স্বপ্ন

নৈঃশব্দ্যে খোলা আছে আপন জগতের দুয়োর

পাখি ও পাপ। মানুষ পাখির মতো উড়তে চায়। উড়া স্বাধীনতার প্রতীক। নিস্কলুষতার প্রতীক। শান্তির প্রতীক। পাপ- নশ্বর জগতে একমাত্র মানুষই পাপবিদ্ধ হয়। মানুষ পাপের অধিকর্তা। পাখি অপাপবিদ্ধ। পাখি কি কখনো মানুষের মতো হতে চায়। তা আমাদের অজানা। কিন্তু একই মানুষের মধ্যে পাখি হবার বাসনা আছে, আবার সে পাপও করে। আলো আর অন্ধকারের মতো। পাখি ও পাপ। নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের প্রথম কবিতার বই। ‘প’ অনুপ্রাস কানে বেশ বাজে। বাজতেই থাকে। সেই বাজনায় আমন্ত্রণ আছে। পড়তে থাকুন নৈঃশব্দ্যে খোলা আছে আপন জগতের দুয়োর

ইমরুল হাসানের রাঙ্গামাটি

বই কবিতার, কিন্তু বইয়ে লেখা হইছে ‘একটি ভ্রমণ কাহিনি’। এই আত্মগোপনটা বইয়ের জন্য ভাল হইছে। যেন ডাক্তারের ছদ্মবেশে খুনি। এখানে অবশ্য মুসাফিরের ছদ্মবেশ নিছে কবি। কবিতা নিজেরে কবিতার বাইরের কোনো কিছু দিয়া চিনাইতে চাইতেছে, এর মধ্যে যে পরিহাসটা আছে সেইটা ভাল লাগলো প্রথমেই। বইয়ে লেখক একটা ভূমিকা লিখছেন। মানস চৌধুরীর লেখা একটা প্রতিক্রিয়াও অনুষঙ্গ নামে ছাপা হইছে বইয়ের শেষে। পড়তে থাকুন ইমরুল হাসানের রাঙ্গামাটি

অনেকদিন পর একটা ভালো বই পড়ছি

বলতেছিলাম তাঁর ভাষার কথা, লেখক বা তাঁর চরিত্র যেইভাবে চিন্তা করে, ভাষার গঠন তো সেইভাবেই আসে… তবে ইদানিং ভাষা নিয়া যে বির্তক শুরু হইছে, এইটা দিয়াই আসলে টের পাওয়া যায়, চিন্তার অসহায়ত্ব কোন পর্যায়ে গিয়া পৌঁছাইলে, মানুষ কী বলা হইছে, তার দিকে নজর না দিয়া কীভাবে বলা হইতেছে, তার ওপর গিয়া হুমড়ি খাইয়া পড়ে… এই বির্তক বর্তমান বাংলাভাষায় চিন্তার অসারতার একটা চলমান উদাহারণ। আর এই দেখনদারির বিষয়টা তো আসলে একদিনে ঘটে নাই, ক্রমান্বয়ে আসছে… কিভাবে উচ্চারণটাই মুখ্য হয়া উঠলো, আমি শুনলাম তুমি কীভাবে বললা, কী বললা সেইটা আর মুখ্য না, কারণ তোমার তো বলার কিছুই নাই, ওই উচ্চারণটাই শুধু… যেমন কবিতা-লেখার চাইতে কবিতা-আবৃত্তি অনেকবেশি পপুলারিটি পাইলো… পড়তে থাকুন অনেকদিন পর একটা ভালো বই পড়ছি

চেনা ও অচেনা চীন

চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের নানামাত্রা সত্ত্বেও চীন এখনও অচেনা। এত কাছে থেকেও কেন এত অচেনা হয়ে রইলো চীন, সে এক প্রশ্ন বটে। আমার মতে, চীন সম্পর্কে তথ্যবহুল বাংলা বইপত্রের অভাবই এর বড় কারণ। তবে বইপত্র লেখার জন্য লেখকদের যেতে হবে চীনে। ব্যবসায়ীরা চীনে যান, রাজনীতিকরা যান, লেখকরা যান না। কেন যান না সে আরেক রহস্য। আর গেলেও কেন লেখেন না সেও একটা জটিল প্রশ্ন। কবি কবির হুমায়ূন চীনে গিয়ে আমাদের নগদ কিছু লাভ হলো। রহস্যের কিছু কিনারও হলো। চীন নিয়ে কবির হুমায়ূনের বই ‘৩৯ পূর্ব হোয়া হুথং’।
পড়তে থাকুন চেনা ও অচেনা চীন

গ্লোবালের আড়ালে লোকাল

শেষ পর্যন্ত মাহবুব মোর্শেদ যে আমাদের কোনও অন্তিম গোধূলি আলোর মুখোমুখি দাঁড় করান না, তাহার জন্য পাঠক হিসাবে তো কিছুটা প্রতারিত বোধ করিবারই কথা। কিন্তু সেটা ঘটে না, মুখ্যত লেখকের উপাদেয় লিখনভঙ্গিমা আর একাধিক বিশ্বাসযোগ্য চরিত্রের সফল উপস্থাপনার কারণে। সুনীল বা হুমায়ূনের রচনায় যে একধরনের সাবলীল সুখপাঠ্যতা থাকে, লেখক অনায়াসে সে-সাফল্য স্পর্শ করিয়াছেন। তিনি যদি শুধু এইটুকুই চাহিয়া থাকেন, তাহা হইলে অচিরেই বাংলাবাজারে আরও একজন বেস্ট সেলার লেখকের অভিষেক ঘটিতে চলিয়াছে, একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। পড়তে থাকুন গ্লোবালের আড়ালে লোকাল

পাপড়ি রহমানের উপন্যাস ‘বয়ন’ : জীবনশিল্পীদের ক্ষয়ে যাওয়া নকশা

‘বয়ন’ উপন্যাসে জীবনের ঘটনাবলি আছে ঠিকই। কিন্তু পাপড়ি রহমান সময়টারে বুঝতে দেন নাই তার উপন্যাসে। উপন্যাস পাঠে মনে হইতে পারে এর সময়কাল মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দশকের। তার মানে আশি বা মধ্য আশি-নব্বই। জনগোষ্ঠীরে নিয়া উপন্যাস লিখতে গেলে সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ- এরা দেশীয় পরিস্থিতির বাইরে বিরাজ করে না। পাপড়ি রহমান এই বিষয়টা বোধহয় খেয়াল করেন নাই। কোন এলাকার বা পেশার মানুষের জীবন তার সমসময় দ্বারা প্রভাবিত হয়-ই। সমসময়ের রাজনীতি আর সংস্কৃতির আগ্রাসনে তারা বিপর্যস্ত হয়। বয়ন উপন্যাসে মুগরাকুল বা দীঘিবরাবো এলাকায় বেঁচে থাকা মানুষেরা একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়া পড়লেন। তারা আর বাইরে যান না বা বাইরের কেউ তাদের গ্রামে আসে না। পড়তে থাকুন পাপড়ি রহমানের উপন্যাস ‘বয়ন’ : জীবনশিল্পীদের ক্ষয়ে যাওয়া নকশা

হোসে সারামাগোর ‘অন্ধত্ব’ নিয়ে

গোটা শহরে, এই উপন্যাস মতে, একজন ছাড়া সবাই অন্ধ হয়ে যায়। সেই একজন ডাক্তারের বউ, বা বলা যায় অপথালমোলোজিস্টের বউ। সে একাই অন্ধদের মাঝে চোখে দেখে। বাকিরা গোটা শহরের মানুষ-আইন-প্রশাসন-সরকার-সেনাবাহিনী-ব্যাংক, সবাই অন্ধ হয়ে যায়। পড়তে থাকুন হোসে সারামাগোর ‘অন্ধত্ব’ নিয়ে

শাহীন আখতারের ‘সখী রঙ্গমালা’ : শুধু রাজচন্দ্রের গীত

সখী রঙ্গমালায় এক ইতিহাস আছে। চৌধুরীদের ইতিহাস। পড়তে থাকুন শাহীন আখতারের ‘সখী রঙ্গমালা’ : শুধু রাজচন্দ্রের গীত

জাকির তালুকদারের মুসলমান দর্শন

উপন্যাসের নাম ‘মুসলমানমঙ্গল’, লেখক জাকির তালুকদার। আগ্রহী হইলাম নাম শুইনা। জাকির তালুকদারের আলাপ-সালাপ কিছু শোনা আছে, লেখাপত্রও পড়ছি কিছু। তাছাড়া ‘মুসলমানমঙ্গল’ নামটা উপন্যাসের নাম হিসেবে দারুণ পছন্দ হইছে। বার কয়েক কেনার চেষ্টা কইরাও পারলাম না। গত বই মেলা থাইকা কিনলাম। পড়তে শুরু করলাম এবং প্রচণ্ড রকম বিরক্ত হইতে থাকলাম। প্রথমত গ্রন্থখানাকে উপন্যাস বলিবার কোন সুযোগ আমি পাইলাম না। শুরুতেই যখন পড়তেছিলাম, ইউসুফ যে কিনা ‘মুসলমানমঙ্গলে’র প্রধান চরিত্র সে যখন তার বোনের বাড়ি যাইতেছিল সেই বর্ণনাটুকু পড়তে ভাল্লাগতেছিল। পড়তে থাকুন জাকির তালুকদারের মুসলমান দর্শন